EN

‘মানবিক করিডর’ কী, এই সুবিধা দিলে ঝুঁকি কোথায়

‘মানবিক করিডর’ কী, এই  সুবিধা দিলে ঝুঁকি কোথায় May 19, 2025, 11:45 AM

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন গত ২৭ এপ্রিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্রিফিংয়ে বলেছিলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গাদের জন্য শর্ত সাপেক্ষে মানবিক করিডর দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ নীতিগতভাবে রাজি হয়েছে।

সেই থেকে দেশে আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে মানবিক করিডর। রাজনৈতিক দলগুলো এর বিরোধিতা করছে। বিশ্লেষকেরা নানা বিষয় সামনে আনছেন। সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে, মানবিক করিডর কী? মানবিক করিডর নিয়ে এত বিতর্ক কেন? মানবিক করিডর দেওয়া হলে বাংলাদেশের জন্য কী কী ঝুঁকি তৈরি হবে?

বিশ্বব্যাপী শরণার্থীদের নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল বলছে, মানবিক করিডর মূলত একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিরাপদ প্যাসেজ (চলাচলের পথ), যা নিয়ে সংঘর্ষরত পক্ষগুলোর মধ্যে চুক্তি হয়। এই করিডর নাগরিকদের যাতায়াতসহ মানবিক সহায়তা দিতে বা আহত, অসুস্থ বা মৃত মানুষদের সরিয়ে নিতে সহায়ক হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সান ডিয়েগোর একাডেমিক ডিরেক্টর ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের অধ্যাপক টোফার ম্যাকডুগাল বিশ্ববিদ্যালয়টির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক নিবন্ধে বলেছেন, মানবিক করিডর হলো একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিরস্ত্রীকৃত এলাকা বা পথ, যার মাধ্যমে ত্রাণসামগ্রী ও সহায়তা পাঠানো যায় এবং বেসামরিক মানুষ ও স্বেচ্ছাসেবীরা নিরাপদে চলাচল করতে পারেন।

অধ্যাপক ম্যাকডুগাল আরও বলেন, যদিও মানবিক করিডর নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত, তারপরও অনেক সময় এগুলো অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। অনেক সময় বিবদমান পক্ষগুলো তাত্ত্বিকভাবে শর্তে রাজি হলেও বাস্তবে তা মানে না।

এর দুঃখজনক উদাহরণ দেখা গেছে ২০২২ সালে রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধে। যুদ্ধবিরতির শর্তে রাজি হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইউক্রেন অভিযোগ করে যে রাশিয়া হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিক্রিয়ায় রুশ কর্মকর্তারা বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধবিরতির সময় প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান জোরদার করায় রাশিয়া আবার আক্রমণ করেছে।

আরেকটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে ফিলিস্তিনে। ২০২৩ সালের শেষ দিকে গাজা উপত্যকায় ঘোষিত নিরাপদ অঞ্চলে ইসরায়েলি সেনারা স্কুল, আবাসিক ভবন ও শরণার্থী আশ্রয়কেন্দ্র লক্ষ্য করে বোমাবর্ষণ করেছিল।

মানবিক করিডর একটি নির্দিষ্ট এলাকায় খাবার, চিকিৎসাসহায়তা এবং অন্যান্য জরুরি সামগ্রী পরিবহনের সুযোগ তৈরি করে।

জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী, মানবিক করিডর হলো আন্তর্জাতিক আইনের অধীন এমন এক চুক্তি, যার উদ্দেশ্য হলো বিপদে থাকা মানুষের কাছে ত্রাণসামগ্রী, খাবার ও পোশাক দ্রুত ও নির্বিঘ্নে পৌঁছানো। এ ছাড়া যুদ্ধে আটকে পড়া নাগরিকদের জন্য মানবিক সুরক্ষার ব্যবস্থা করা।

১৯৯০ সালে জাতিসংঘে মানবিক করিডরের প্রস্তাব পাস হয়। রাজনৈতিক বা সামরিক উদ্দেশ্যে নয়, মানবিক দিক বিবেচনা করে বিষয়টির স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

← ফিরে যান