EN

ড. ইউনূস ‘থাকছেন’

ড. ইউনূস ‘থাকছেন’ May 25, 2025, 3:17 PM

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস পদত্যাগের কথা ভাবছেন- নাহিদ ইসলাম দেখা করে এসে একথা বলার পর দুদিন ধরে চলছে তার দায়িত্ব ছাড়া নিয়ে নানামুখী গুঞ্জন। ‘মার্চ ফর ইউনূস’ কর্মসূচিও ডেকেছে একটি সংগঠন।

তবে বৃহস্পতিবার ড. ইউনূসের নেতৃত্বে এক বৈঠকের পর উপদেষ্টা পরিষদের জ্যেষ্ঠতম সদস্য ওয়ািহদউদ্দি মাহমুদ এই গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন। তিনি সাংবাদিকদের বললেন, ড. ইউনুস প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকছেন।

শেরেবাংলা নগরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের বৈঠক শেষে একথা বলেন ওয়াহিদউদ্দিন। তার আগে ড. ইউনূসের সভাপতিত্বে এনইসির সভা শেষে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা এক অনির্ধারিত বৈঠকে বসেন।

এই বৈঠকে উপদেষ্টা পরিষদের ১৯ জন সদস্য ছিলেন বলে বৈঠক সূত্র জানায়। বৈঠকের মাঝে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বেরিয়ে যেতে দেখা যাওয়ার খবর দিয়েছে বিবিসি বাংলা।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছরের ৮ আগস্ট ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। সেই সরকারের বছর না গড়াতেই এখন নির্বাচন নিয়ে মতভেদ দেখা দিয়েছে।

বিএনপি গত বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের রোডম্যাপ ঘোষণা না হলে তারা সরকারকে আর সহযোগিতা করবে না। তার একদিন আগে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানও সেনানিবাসে এক সভায় ডিসেম্বরে নির্বাচনের ওপর জোর দেন।

এদিকে অভ্যুত্থানকারীদের গড়া দল এনসিপি সংস্কার ও জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারের আগে নির্বাচনের পক্ষপাতি নয়।

রাজনৈতিক অঙ্গনে মতভেদের মধ্যে ড. ইউনূসের পদত্যাগের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার রাতে তার সঙ্গে দেখা করে এনপিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানান, সার্বিক পরিস্থিতিতে অসন্তুষ্ট ড. ইউনূস পদত্যাগের কথা ভাবছেন।

এরপর থেকে সারাদেশে মানুষের মধ্যে চলছে নানা ধরনের আলোচনা, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাও দেখা দেয়।

তার মধ্যেই শনিবার এনইসি সম্মেলন কক্ষে এনইসির বৈঠক বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকরা পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিনের কাছে প্রশ্ন করেন পদত্যাগের গুঞ্জন নিয়ে।

প্রধান উপদেষ্টা কি থাকছেন- এই প্রশ্নে তিনি বলেন, “অবশ্যই, উনি তো চলে যাবেন বলেননি।”

১৯৯৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারেও ইউনূসের সঙ্গে থাকা ওয়াহিদউদ্দিন বলেন, “বৈঠকে উনি (প্রধান উপদেষ্টা) বলেছেন যে আমাদের  যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সে দায়িত্ব পালনে অনেক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু আমরা সকল প্রতিবন্ধকতা কাটিয়েই আমাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব …

“এটা তো একটা বড় দায়িত্ব। এটার ওপর নির্ভর করবে দেশের বহু বছরের ভবিষ্যৎ। এই দায়িত্ব ছেড়ে তো আমরা যেতে পারব না। এবং এই দায়িত্ব পালনে যেসব প্রতিবন্ধকতাগুলো আসছে সেই প্রতিবন্ধকতাগুলো আমরা আলোচনা করেছি।”

এদিকে এই বৈঠকের পর উপদেষ্টা পরিষদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, এনইসির সভা শেষে উপদেষ্টা পরিষদ এক অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় বসে, সেখানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর অর্পিত তিনটি প্রধান দায়িত্ব (নির্বাচন, সংস্কার ও বিচার) বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, দেশকে স্থিতিশীল রাখতে, নির্বাচন, বিচার ও সংস্কার কাজ এগিয়ে নিতে এবং চিরতরে এদেশে স্বৈরাচারের আগমন প্রতিহত করতে বৃহত্তর ঐক্য প্রয়োজন বলে মনে করে উপদেষ্টা পরিষদ। এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য শুনবে এবং সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করবে।

“শত বাধার মাঝেও গোষ্ঠীস্বার্থকে উপেক্ষা করে অন্তর্বর্তী সরকার তার উপর দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। যদি পরাজিত শক্তির ইন্ধনে এবং বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে সরকারের উপর আরোপিত দায়িত্ব পালনকে অসম্ভব করে তোলা হয়, তবে সরকার সকল কারণ জনসমক্ষে উত্থাপন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।”

 

ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, “বড় পরিসরে আগামী নির্বাচন এবং একটি সুশাসিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় উত্তরণের জন্য যে ধরনের ক্ষেত্র তৈরি করা দরকার … এটাই তো আমাদের আসল কাজ, সে কাজেও প্রতিবন্ধকতা, কোথা থেকে আসছে সেগুলো আমরা (বৈঠকে) চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছি।”

এক্ষেত্রে সফল হতে অভ্যুত্থানের সব শক্তি, রাষ্ট্রীয় সব সংস্থাসহ সব রাজনৈতিক দলের কাছে সহযোগিতা চান তিনি।

নির্বাচনের রোড ম্যাপ নিয়ে কোনও আলোচনা হয়েছে কি না- জানতে চাইলে ওয়াহিদউদ্দিন বলেন, “এর বাইরে আর কিছু বলার নাই।”

তার পদত্যাগের দাবির বিষয়ে ওয়াহিদউদ্দিন বলেন, “আমি জানতে চেয়েছি, দলীয়ভাবে কোনও কথা বলা হয়েছে কি না?

মনে হচ্ছে আমাকে জানানো হবে এটা আসলে দলীয় কোন মতামত নয়। যদি দলীয় মতামত হত তাহলে … কারণ এই সরকার তো গণঅভ্যুত্থানের সপক্ষের সকল শক্তির সমর্থনেই এসেছে এবং সরকারের ভিত্তিই সেটা।”

বিএনপি উপদেষ্টা পরিষদ থেকে অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতা মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে বাদ দেওয়ার দাবি তুললে এনসিপি পাল্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, সালেহ উদ্দিন আহমদ ও আসিফ নজরুলকে বাদ দেওয়ার দাবি তোলে।

“আমরা স্বপ্রণোদিত হয়ে কেউ এখানে আসিনি এবং এই দায়িত্ব উপভোগ্য কোনও দায়িত্বও না। সেরকম কিছু হলে তো আমরা যে কেউ পদত্যাগ করতে পারতাম, ” বলেন ওয়াহিদউদ্দিন।

আরও পড়ুন

← ফিরে যান